সীমান্তে কোন মৃত্যুও কাম্য হতে পারে না ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার

0
114

 

সীমান্তে কোন মৃত্যুও কাম্য হতে পারে না ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার

সীমান্তে হত্যা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নব নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, সীমান্তে একটি মৃত্যুও কাঙ্খিত নয়। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি তার দিক থেকেও চেষ্টা করে যাবেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ইন্ডিয়া হাউজে সাংবাদিক বৈঠকে এসে এসব কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন। বিক্রম দোরাইস্বামী ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুক্রবার সভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে বীরশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার। বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারতের সঙ্গে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ সবসময় ভারতের অত্যন্ত বিশেষ অংশীদার ছিল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে। কারণ এই বন্ধুত্ব রচিত হয়েছে অভিন্ন ত্যাগ, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মীয়তার এক অনন্য সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশকে ভারত সর্বোচ্চ স্তরের গুরুত্ব দেয় এবং এটি কখনোই হ্রাস পাবার নয়। বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী নয়, বিশ্বস্থ বন্ধুও। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এ সম্পর্ক কূটনৈতিক পরিমন্ডল ছাড়িয়ে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাবনাময় প্রতিটি ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন। ভারতীয় হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বলেন, ভারতে যে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদিত হবে সেটা বাংলাদেশ সময় মতো পাবে। তিনি ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বঙ্গ ভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকষ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

ইন্ডিয়া হাউজে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার আরও বলেন, আমরা খুব শিগগিরই উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় একটি বিশেষ এয়ার বাবল ব্যবস্থা চালু করব। আমরা কোভিড মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রত্যাশা পূরণে আমি এবং আমার সহকর্মীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সাফল্য বা ক্রিকেট পিচে টাইগারদের অপ্রতিরোধ্য মনোবল যা-ই হোক না কেন সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে নতুন সম্মানের সঙ্গে দেখছে। আমরা আপনাদের নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে এই উপযুক্ত স্বীকৃতিতে আনন্দিত। ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ঐতিহাসিক জনযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি জাতিকে রূপদানকারী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের চেতনার প্রতি আমরা গভীরভাবে সম্মান জানাই। আপনারা অসংখ্য মৃত্যু ও মাবোনদের প্রতি বর্বর নির্যাতন উপেক্ষা করে সাহস এবং বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধ বিশে^র অন্যতম অনুপ্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পেরে বিষয়টি সব সময়ই ভারতের জন্য সম্মানের। যেমন ৫০ বছর পরও বাংলাদেশের সাহসের প্রতি ভারত আজও সম্মান জানায়।

বিক্রম দোরাইস্বামী আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই কারণেই, কোভিড মহামারি মধ্যেও ভারতের বিদেশমন্ত্রী বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্থগিতের পরেও প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ বেচে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং আমাদের দ্পিাক্ষিক কূনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বাষির্কী স্মরণীয় বছরগুলোর স্বীকৃতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আর এই অংশিদারিত্বের জন্য আমরা সেবা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা আমাদের ইতিহাসের এই মুহূর্তে নিয়ে এসেছেন। আমরা আপনাদের নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে এই উপযুক্ত স্বীকৃতিতে আনন্দিত। বাংলাদেশের উন্নতির কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য বাংলাদেশ আজ সমানভাবে সম্মানিত। একইভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুততম গতিতে আপনাদের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আমরা অভিনন্দন জানাই। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, আমি স্বীকার করি, নিকটতম সম্পর্কেরও পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আমার সরকার আমাকে ঠিক তাই করার নির্দেশ দিয়েছে। আমি এবং আমার সহকর্মীরা এই অংশীদারিত্বকে সর্বস্তরে প্রচার করতে কোনো সুযোগই ছাড়ব না।
আমিনুল হক, ঢাকা, NE INDIA NEWS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here