বানের জলে ভাসছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল

0
477

বানের জলে ভাসছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল

বলা যেতে পারে দেশের প্রতিটি নদনদীর জল বেড়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকার চারিদিকের নদীর জল উপছে এরই মধ্য ঢাকার নিম্নাঞ্চলে হু হু করে জল ঢুকছে। বহু জায়গায় এখন কোমড় ভাঙ্গা জল। রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো ডুবিয়ে ১৬ বছর পর বন্যার জল প্রবেশ করল রাজধানীতে। ডুবে গেছে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বেরাইদ, সাঁতারকুল, গোড়ান, বনশ্রী,বাসাবো ও আফতাবনগরের নিচু এলাকা। এ ছাড়া ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও ডিএনডি বাঁধ এলাকায়ও বন্যার জল ঢুকতে শুরু করেছে। রাজধানীর আশপাশের বালু, তুরাগ ও টঙ্গী খালের জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। বালু নদের জল উপচে ঢুকে পড়েছে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বেশ কয়েকটি এলাকায়। বেরাইদের ফকিরখালীর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ঢুকেছে বানের জল । সুপেয় জল সংকটে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার। এলাকাবাসী জানালেন, রাজধানীতে আমরা ১৯৯৮-এর পর এত জল দেখিনি। ডেমড়া থেকে টঙ্গী বেড়িবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে আমাদের কষ্ট লাঘব হচ্ছে না। স্থায়ী বাসিন্দারা বললেন, রাতে যখন ঘুমিয়ে থাকি, মাঝ রাতে বিছানা জলে ভিজে যায়। তখন বিছানার ওপরে উঠে বসে থাকতে হয়। ৯৮ সালে যেরকম বন্যা দেখেছি, ঠিক তেমনি ২০২০ সালে এসে এই রকম বন্যা দেখছি। পরিবেশ ও জল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন যে বন্যা, সেটা জল নামার কারণে। নিম্নাঞ্চলে জল নামছে, তাই প্লাবিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে সারাদেশে বৃষ্টি হওয়ায় প্রায় সব নদীতে জল বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহ এ অবস্থা থাকবে। যেসব পথে জল বের হওয়ার কথা, তা বালু দিয়ে ভরাট করে জবরদখল করা হয়েছে। সুতরাং পানি বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হওয়ায় রাজধানীর জল বের হতে পারছে না। এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, মূলত পূর্বাঞ্চল দিয়ে জল ঢুকছে রাজধানীতে। শীতলক্ষ্যা নদী ও বালু নদের জল প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে নন্দীপাড়া, জুরাইন, বাড্ডা, ডেমরা, নারায়ণগঞ্জের কিছু অংশ জলের নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহ পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। এরপর জল নেমে যাবে। তবে ১৯৮৮ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা এবার হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও পূর্বাঞ্চল এখনো অরক্ষিত। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে জলাভূমি ভরাট করে। ফলে নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করলেই ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। নগরীর পূর্বাঞ্চল অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন ঐ এলাকায় পানির স্রোত অনেক বেশি। স্থানীয়রা বলছেন, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা বন্যার জলে কারণে রাজধানীসংলগ্ন নদীতে জল বেড়েছে। মূলত বন্যার জল ঢুকে পড়ায় এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ বালু নদের জল বিপদসীমার ওপরে থাকবে। তাই এই এলাকা নতুন করে আরো প্লাবিত হবে বলে মনে করেন জল বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যতদিন বালু নদের পাড়ে বাঁধ নির্মাণ না করা হবে, ততদিন এই এলাকার মানুষকে বন্যার জলে ভাসতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (সাবেক নাসিরাবাদ ইউনিয়ন) ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকা জলে তলিয়ে গেছে। ওয়ার্ডের ইদারকান্দি, ফকিরখালী, বালুর পাড়, বাবুর জায়গা, দাসেরকান্দি, জোড়ভিটা, ত্রিমোহনী, উত্তরপাড়া, নাসিরাবাদ উত্তরপাড়া, নাসিরাবাদ টেকপাড়া, ইমামবাগের কিছু অংশ, উত্তরগাঁও, শেখের জায়গা ও নাগদারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দেড় হাত জল বেড়েছে। এসব এলাকায় বসবাসরত মানুষের বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। এলাকার মানুষ এখন নৌকায় কিংবা জলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছে।
আমিনুল হক, ঢাকা, NE INDIA NEWS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here