বাংলাদেশে ৩০ হাজার পূজার আয়োজন

0
54

বাংলাদেশে ৩০ হাজার পূজার আয়োজন

করোনামহামারি সময়েও বাংলাদেশে ৩০ হাজারের অধিক পুজার আয়োজন চলছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন। এই টাকা পুজার আয়োজনের দিক থেকে যারা ফিছিয়ে তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানালেন, জাতীয় পুজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব দে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রমনা কালিমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের মূলক ফটকের কাছে যে কোন ভক্ত পৌছালেই থমকে দাঁড়াতে হবে। মূল ফটকের ডান পাশে বিশাল পুকুর। তারমধ্যিখানে গড়া হচ্ছে নারায়নের ৪০ ফুট উচ্চতার মূর্ত্তি। প্রায় ৬জনের একটি দল রাতদিন কাজ করে চলেছেন। মন্দিরের ভেতরেও আয়োজনের যজ্ঞ চলছে। রমনা কালিমন্দিরে রাতদিন বলতে গেলে একই। মন্দিরের ভেতরটা সাজানো হচ্ছে বাহারী সাজে। আর দুপুর গড়িয়ে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ^রীর সদর দরজা পেরিয়ে এগুতেই থমতে দাঁড়াতে হলো। দেখা গেলো মন্দির প্রঙ্গণে ‘বছর ঘুরে এলো মা’ গানের সঙ্গে একদল তরুন-তরুণীর নাচের মহড়া চলছে। কথা হলো নির্মাতা ও কুরিওগ্রাফার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। অত্যন্ত বিনয়ী সাইফুলের মুখে স্মিত হাসি। আশির দশকে টালিগঞ্জে তার কোরিওগ্রাফিতে কোন নায়ক-নায়িকা কাজ করেননি? প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা থেকে শুরু করে বলতে গেলে সবাই।

একবার রমজানকালে তার কাজ করতে হয়েছে সেখানে। তিনি রোজা রাখেন। কিন্তু রাতের খাবারের কি হবে ? সাইফুল ইসলামের এমন ভাবনার কথা প্রসেনজিৎ জানা মাত্র বললেন, ‘ আমার মা-ই তোমার রাতের রান্না করে দেবে’! এই কথা বলে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না সাইফুল। ঢাকেশ^রীর পবিত্র মাটিতে গড়িয়ে পড়লো তার অশ্রু। সাইফুলের ভাষায় ‘আমি মানবতার পুজো করি।’ প্রতিবছরই পুজা উপলক্ষে তিনি একাধিক গান রিলিজ করে থাকেন পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম পাড়ার জনপ্রিয় এই কোরিওগ্রাফার। বাংলাদেশের পুজা মানেই জমকালো আয়োজন। করোনায়ও আয়োজনে কমতি নেই। মন্দিরের বাইরের জৌলুসে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ভেতরের আয়োজনে ঘাটতির দেখা মেলেনি।

প্রতিবারের ন্যায় এবারে শারদীয় উৎসব উপলক্ষে ২ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের দফতর সম্পাদক বিপ্লব দে বলেন, হিন্দুকল্যাণ ট্রাস্ট এই টাকা অপেক্ষাকৃত দুর্বল মন্ডপে বিতরণ করবে। বাংলাদেশের এবারেও ৩০ হাজারের অধিক পূজোর আয়োজন হবে। বিপ্লব বাবু জানান, অনেক জায়গাই পুজো করার আশা এবারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু করোনার কিছুটা উন্নতি হবার পর ঐসব স্থানে পুজার আয়োজন চলছে। পুজ উপলক্ষ্যে কমিটির তরফে ২৬টি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে ইতিমধ্যেই তারা সংশ্লিষ্ট মন্ডপগুলোকে অবহিত করেছেন।

এবারেও পুজোয় বড় মন্ডপগুলোতে সিসিক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দিরে প্রবেশ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাসীসহ সকল রকম ব্যবস্থা থাকছে। করোনামাহামারি হিন্দুসমাজের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় শারদীয় দুর্গোসব উপলক্ষে বাংলাদেশে কোথায় আনন্দে ভাটা নেই। পাড়া-মহল্লায় প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। আরও একমাস আগে থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা। বেশিরভাগ মন্ডপের প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন বাকী রঙতুলির আচর এবং মাকে সাজিয়ে তোলার কাজ। ঢাকা মহানগর সার্বজনিন পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানিয়েছেন, গত বছর মহানগরে ২৩৭টি পুজো উদযাপন হয়েছিলো। এবারে ৩টি কমে গিয়ে ২৩৪টি পুজো আয়োজন হচ্ছে। ঢাকশ্বেরী জাতীয় মন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় শেষ। এখন বাকী রঙতুলির। এবারেরও জাতীয় মন্দিরে নিরাপত্তামূলক ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখানে বসবে র্যাব, পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প। থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারী। স্থানীয় ফাঁড়ি ও থানার পুলিশও দায়িত্বে থাকবেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের ব্যবস্থাও থাকছে। এরমধ্যে পূজোর নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভিডিও গান রিলিজ করা হচ্ছে।

বিপ্লব বাবু জানান, জেলা ওয়ারী এখনও পর্যন্ত তাদের হাতে যে তালিকা এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পুজার আয়োজন হচ্ছে দিনাজপুরে ১২৪৫টি, এরপর টাঙ্গাইল ১১৬০, মৌলভীবাজার ১০৮৫, গোপালগঞ্জে ১২০৫, ফরিদপুরে ৭৪৫, চট্টগ্রাম ১৩০০, খুলনা ১০০৮টি। তবে, সারা দেশ থেকে তালিকা আসছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সারাদেশের সর্বমোট তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে সকল প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে পুজো কমিটির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজা উদযাপনে সবাই অংশ মানুষিক প্রস্তুতি নিতেও বলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে।

আমিনুল হক, ঢাকা, NE INDIA NEWS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here